Visa

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। জানুন বিস্তারিত

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে ভাবছেন? তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য। এই ভিসার খুঁটিনাটি, প্রকারভেদ, আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কী?

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হলো এমন একটি অনুমতি, যা আপনাকে যুক্তরাজ্যে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। সহজ ভাষায়, এটি একটি ছাড়পত্র। এই ভিসা থাকলে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইউকে-তে চাকরি করতে পারবেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রকারভেদ

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ভিসাটি বেছে নিতে হবে। এখানে কয়েকটি প্রধান ভিসার প্রকার উল্লেখ করা হলোঃ

স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা

এই ভিসাটি মূলত দক্ষ কর্মীদের জন্য। যদি আপনার কাজের দক্ষতা ইউকে-তে দরকারি হয়, তাহলে এই ভিসা আপনার জন্য। যেমন ধরুন, আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার বা আইটি বিশেষজ্ঞ।

হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা

স্বাস্থ্যখাতে যারা কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই ভিসা। ডাক্তার, নার্স অথবা কেয়ারগিভার হিসেবে ইউকে-তে কাজ করতে চাইলে এই ভিসা প্রয়োজন হবে।

ইন্ট্রাকম্পানি ট্রান্সফার ভিসা

যদি আপনি কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানির কর্মী হন এবং ইউকে-তে তাদের অফিসে বদলি হতে চান, তাহলে এই ভিসা লাগবে। এটি সাধারণত কোম্পানির অভ্যন্তরে কর্মীদের স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়।

গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা

বিজ্ঞান, কলা, ফ্যাশন বা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে যারা বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন, তাদের জন্য এই ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে আপনি ইউকে-তে কাজ করতে এবং বসবাস করতে পারবেন।

সিজনাল ওয়ার্কার ভিসা

কৃষি বা হসপিটালিটি সেক্টরে যারা সাময়িক কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই ভিসা। যেমন, ফল তোলা বা রিসোর্টে কাজ করা।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয়তা

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা এবং ডকুমেন্টস থাকতে হবে। এগুলো না থাকলে ভিসা পাওয়া কঠিন। চলুন, দেখে নেওয়া যাক কী কী প্রয়োজনঃ

সাধারণ যোগ্যতা

  • আপনার একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • আবেদন করার সময় আপনার বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
  • ইউকে-তে থাকার সময় নিজের খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট টাকা থাকতে হবে।
  • আপনাকে অবশ্যই ভালো চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।

কাজের প্রস্তাব

ইউকে-তে কোনো কোম্পানি থেকে কাজের প্রস্তাব পেতে হবে। এই প্রস্তাবটি একটি স্পন্সর লাইসেন্সধারী কোম্পানি থেকে আসতে হবে।

স্পন্সরশিপ

আপনার নিয়োগকর্তা (Employer) আপনার ভিসার জন্য স্পন্সর হতে হবে। তাদের অবশ্যই ইউকে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

দক্ষতার প্রমাণ

আপনার কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রমাণ করতে হবে। যেমন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট।

ইংরেজি ভাষার দক্ষতা

আপনাকে ইংরেজি ভাষায় ভালো হতে হবে। IELTS বা অন্য কোনো স্বীকৃত পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকতে হবে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

ভিসা আবেদনের জন্য কিছু জরুরি ডকুমেন্টস দরকার হবে। এগুলো গুছিয়ে রাখতে পারলে আপনার কাজ সহজ হয়ে যাবে।

  • বৈধ পাসপোর্ট
  • কাজের প্রস্তাবপত্র
  • স্পন্সরশিপ সার্টিফিকেট
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
  • কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র
  • ইংরেজি ভাষার পরীক্ষার ফলাফল
  • আবেদনকারীর ছবি
  • আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করা একটু জটিল। তবে সঠিক নিয়ম জানলে আপনি সহজেই আবেদন করতে পারবেন। এখানে একটি সাধারণ গাইডলাইন দেওয়া হলোঃ

  1. প্রথমে ইউকে ভিসার ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করুন।
  2. এরপর ভিসার জন্য আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে।
  3. প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টস স্ক্যান করে আপলোড করুন।
  4. কিছু ক্ষেত্রে ভিসা অফিসে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে।
  5. আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই করে ভিসা ইস্যু করা হবে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বেতন

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আপনার বেতন কেমন হবে, তা নির্ভর করে আপনার কাজের ধরনের ওপর। বিভিন্ন কাজের জন্য বেতনের ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণত, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম বেতন থাকতে হয়।

এখানে একটি আনুমানিক বেতন টেবিল দেওয়া হলোঃ

কাজের ধরণআনুমানিক বেতন (বাৎসরিক)
আইটি বিশেষজ্ঞ£30,000 – £60,000
ইঞ্জিনিয়ার£28,000 – £55,000
নার্স£25,000 – £45,000
শিক্ষক£24,000 – £40,000
হিসাবরক্ষক (Accountant)£26,000 – £50,000

এই বেতনগুলো শুধু উদাহরণ। আপনার প্রকৃত বেতন আপনার অভিজ্ঞতা এবং কোম্পানির ওপর নির্ভর করবে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে কিছু খরচ আছে। এই খরচগুলো ভিসার প্রকার ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। এখানে একটি আনুমানিক খরচের টেবিল দেওয়া হলোঃ

ভিসার ধরণআনুমানিক খরচ
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা£625 – £1423
হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা£232 – £719
ইন্ট্রাকম্পানি ট্রান্সফার ভিসা£625 – £1423
গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা£623

এগুলো শুধু ভিসার খরচ। এর সাথে স্বাস্থ্য বীমা এবং অন্যান্য খরচ যোগ হতে পারে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়। এই যোগ্যতাগুলো পূরণ করতে না পারলে ভিসা পাওয়া কঠিন।

  • আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  • আপনাকে অবশ্যই স্পন্সরশিপ লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানি থেকে কাজের প্রস্তাব পেতে হবে।
  • আপনার কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ইংরেজি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
  • আর্থিক স্থিতিশীলতা থাকতে হবে, যাতে ইউকে-তে নিজের খরচ চালাতে পারেন।
  • কোনো প্রকার ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকা চলবে না।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করার ওয়েবসাইট

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ওয়েবসাইটটি হলোঃ https://www.gov.uk/

এই ওয়েবসাইটে আপনি ভিসার আবেদন ফরম, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং অন্যান্য নির্দেশনা পাবেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইন্টারভিউ প্রস্তুতি

কিছু ক্ষেত্রে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হতে পারে। এই ইন্টারভিউতে ভালো করতে পারলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

  • সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন।
  • নিজের কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন।
  • ইউকে-তে কাজ করার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন।
  • সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রশ্নের উত্তর মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং সঠিকভাবে উত্তর দিন।
  • শালীন ও মার্জিত পোশাক পরুন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ

অনেক সময় ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। এর পেছনে কিছু কারণ থাকে। কারণগুলো জানলে আপনি আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারবেন।

  • ভুল তথ্য প্রদান করলে।
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা না দিলে।
  • আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ দিতে না পারলে।
  • স্পন্সরশিপের অভাব থাকলে।
  • আবেদনপত্রে ভুল থাকলে।
  • পূর্বে ভিসা আইন লঙ্ঘন করলে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করার সময়সীমা

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। তবে, আপনার কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত আবেদন করা উচিত। কারণ, স্পন্সরশিপ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর সাধারণত তিন মাসের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। দেরি করলে আপনার প্রস্তাব বাতিল হয়ে যেতে পারে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় ভিসার ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রেও একই রকম সময় লাগতে পারে।

আবেদনের সময় সব ডকুমেন্টস সঠিকভাবে জমা দিলে প্রক্রিয়াকরণের সময় কম লাগে।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

ভিসা আবেদন একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে আপনার জন্য এটি সহজ হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবী আপনাকে সঠিক পথে গাইড করতে পারেন। তারা আপনার যোগ্যতা মূল্যায়ন করে সঠিক ভিসা বেছে নিতে সাহায্য করবেন।

পাশাপাশি, আবেদনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতে পারবেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করার টিপস

ভিসা আবেদন করার সময় কিছু টিপস অনুসরণ করলে আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে।

  • আবেদনপত্রটি মনোযোগ দিয়ে পূরণ করুন।
  • প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টস সঠিকভাবে আপলোড করুন।
  • সাক্ষাৎকারের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন।
  • আবেদনের ফি সময়মতো পরিশোধ করুন।
  • নিয়মিতভাবে আপনার আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন।
  • কোনো ভুল হলে দ্রুত সংশোধন করুন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং স্বাস্থ্য বীমা

ইউকে-তে কাজ করতে হলে স্বাস্থ্য বীমা (Health Insurance) থাকা জরুরি। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) আপনাকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে প্রাইভেট হেলথ ইন্স্যুরেন্স-এর প্রয়োজন হতে পারে। আপনার নিয়োগকর্তা সাধারণত এই বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং ট্যাক্স

ইউকে-তে কাজ করলে আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে। আপনার আয়ের ওপর ভিত্তি করে ট্যাক্সের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স (National Insurance) নামে একটি বিশেষ ট্যাক্সও দিতে হয়, যা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে জমা হয়।

ট্যাক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনি এইচএম রে revenueন্ড কাস্টমস (HMRC)-এর ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং বাসস্থান

ইউকে-তে থাকার জন্য বাসস্থান খুঁজে বের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুরুতে আপনি আপনার কর্মস্থলের কাছাকাছি কোনো অ্যাপার্টমেন্ট বা গেস্ট হাউসে থাকতে পারেন। পরে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বাসা খুঁজে নিতে পারেন।

বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে, যেমন – এলাকার নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা এবং জীবনযাত্রার খরচ।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং কাজের সুযোগ

ইউকে-তে বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং শিক্ষা খাতে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি বিভিন্ন জব পোর্টালে আপনার পছন্দের কাজ খুঁজে নিতে পারেন।

যেমন – Indeed, LinkedIn, Reed ইত্যাদি।

এছাড়াও, নিয়োগ সংস্থাগুলোর (Recruitment Agencies) মাধ্যমেও আপনি কাজের সন্ধান পেতে পারেন।

ইউকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং ভিসা নবায়ন

আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, সেটি নবায়ন (Renew) করার প্রয়োজন হবে। ভিসা নবায়নের জন্য আপনাকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করতে হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে আপনার কাজের ধারাবাহিকতা, স্পন্সরের সমর্থন এবং ইউকে-তে থাকার কারণগুলো বিবেচনা করা হয়।

আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং ফি জমা দিতে হবে।

আরো জানুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button