ওমান যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫ (বিস্তারিত তথ্য)
ওমান যেতে কত টাকা লাগে এই প্রশ্নটি অনেকের। মধ্যপ্রাচ্যের এই সুন্দর দেশটি এখন অনেকেরই পছন্দের গন্তব্য। কেউ যান ঘুরতে, কেউ যান কাজের সন্ধানে, আবার কেউ যান নতুন জীবন শুরু করতে। কিন্তু ওমান যেতে কত টাকা লাগে, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। আজকের এই পোস্টটিতে আমরা এই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবো।
কেন ওমান যাবেন?
ওমান যেতে কত টাকা লাগে এটা সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনেকে দেশটিতে কেন যাবেন এটি নিয়ে প্রশ্ন করে থাকেন। নিচে এ বিষয়টা সম্পর্কে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলোঃ
ওমানে রয়েছে চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। একদিকে যেমন আছে বিশাল মরুভূমি, তেমনি অন্যদিকে আছে সবুজ পাহাড় আর নীল সমুদ্র। এখানকার সৈকতগুলো খুবই পরিষ্কার এবং শান্ত।
ওমান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম নিরাপদ দেশ। এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অতিথিপরায়ণ। আপনি এখানে নিশ্চিন্তে ঘুরতে বা কাজ করতে যেতে পারেন।
ওমানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণ, পর্যটন এবং তেল শিল্পে কাজের চাহিদা বেশি। ভালো বেতনে কাজ করার সুযোগ থাকায় অনেকেই ওমানকে বেছে নেন।
ওমানে দেখার মতো অনেক সুন্দর জায়গা আছে। মাস্কাট, সালালাহ, নিজওয়া এবং সুরের মতো শহরগুলোতে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক আসেন। এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক স্থাপত্য সবকিছু মিলিয়ে ওমান একটি অসাধারণ গন্তব্য।
ওমান যেতে কত টাকা লাগে(বিস্তারিত হিসাব)
ওমান যেতে কত টাকা লাগে,সেটা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন – আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কত দিনের জন্য যাচ্ছেন এবং কী ধরনের সুবিধা নিতে চান। সাধারণত, ওমান যেতে প্রায় ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। নিচে এই খরচের একটি বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হলোঃ
ভিসার খরচ
ওমান যেতে ভিসার প্রয়োজন হয়। ভিসার খরচ আপনার ভিসার ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, ভিজিট ভিসা এবং কাজের ভিসার জন্য আলাদা আলাদা ফি দিতে হয়।
ভিজিট ভিসা
ওমানের ভিজিট ভিসার খরচ সাধারণত ৩০ ওমানি রিয়াল থেকে শুরু হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯,৫২৭টাকা। এই ভিসা সাধারণত এক মাস মেয়াদী হয় এবং এটি শুধুমাত্র ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।
ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসা
যদি আপনি কাজের জন্য ওমান যেতে চান, তাহলে আপনাকে ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসা নিতে হবে। এই ভিসার খরচ সাধারণত আপনার কোম্পানি বহন করে। তবে, যদি নিজে থেকে এই ভিসা করতে চান, তবে খরচ ২০০ থেকে ৩০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৩,৫১৮- ৯৫২৭৭টাকা।
- নিচে ভিসার প্রকারভেদ এবং তাদের খরচ টেবিলের মাধ্যমে দেখানো হলোঃ
- ভিজিট ভিসার খরচ ৩০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৯,৫২৭ টাকা।
- কাজের ভিসার খরচ ২০০-৩০০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৬৩,৫১৮-৯৫,২৭৭ টাকা।
প্লেনের টিকিটের খরচ
ওমান যাওয়ার প্লেনের টিকিটের খরচ সময়ের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, ঢাকা থেকে মাস্কাটের সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া একটু বেশি হয়। তবে, কানেক্টিং ফ্লাইটের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
নন-স্টপ ফ্লাইট
নন-স্টপ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে, টিকিটের দাম সাধারণত ৫০,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই ফ্লাইটগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে মাস্কাটে পৌঁছায়।
কানেক্টিং ফ্লাইট
কানেক্টিং ফ্লাইটের ক্ষেত্রে, টিকিটের দাম সাধারণত ৩৫,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে, এই ফ্লাইটগুলোতে ভ্রমণ করতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
- নিচে বিভিন্ন ফ্লাইটের টিকিটের খরচের একটি তুলনা দেওয়া হলোঃ
- নন -স্টপ ফ্লাইটে ৩-৪ ঘন্টা ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ৫০,০০০-৭০,০০০ টাকা।
- কানেক্টিং ফ্লাইটের ৬-১০ ঘন্টা ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ৩৫,০০০-৫০,০০০ টাকা।
থাকার খরচ
ওমানে থাকার খরচ আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে। এখানে বিলাসবহুল হোটেল থেকে শুরু করে বাজেট-ফ্রেন্ডলি গেস্ট হাউসও পাওয়া যায়।
হোটেল
মাস্কাটে ভালো মানের হোটেলে থাকতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ ওমানি রিয়াল খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ১২,৭০৩ -৩১,৭৫৯ টাকা।
গেস্ট হাউস ও অ্যাপার্টমেন্ট
বাজেটে থাকলে গেস্ট হাউস বা অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের খরচ ১৫ থেকে ৩০ ওমানি রিয়াল হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪,৭৬৩-৯,৫২৭টাকা।
নিচে থাকার বিভিন্ন বিকল্প এবং তাদের খরচের একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
- হোটেলে প্রতিদিনের থাকার খরচ ৪০-১০০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার প্রতিদিনকার হিসাব ১২,৭০৩-৩১,৭৫৯ টাকা।
- গেস্ট হাউজে প্রতিদিনের থাকার খরচ ১৫-৩০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশ টাকায় যেটার প্রতিদিনকার হিসাব ৪,৭৬৩-৯,৫২৭ টাকা।
খাওয়ার খরচ
ওমানের খাবারের খরচও আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট আছে, যেখানে আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী খেতে পারেন।
রেস্টুরেন্ট
ভালো রেস্টুরেন্টে এক বেলার খাবার খেতে প্রায় ৫ থেকে ১০ ওমানি রিয়াল খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ১,৫৮৭- ৩,১৭৫ টাকা।
সাধারণ খাবার দোকান
সাধারণ খাবার দোকানে বা লোকাল রেস্টুরেন্টে কম খরচে খাবার পাওয়া যায়। এখানে এক বেলার খাবার খরচ ২ থেকে ৫ ওমানি রিয়াল হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৩৫-১,৫৮৭ টাকা।
নিচে বিভিন্ন ধরনের খাবারের খরচের একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
ভালো রেস্টুরেন্টে এক বেলার খাওয়ার খরচ ৫-১০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেিশ টাকায় যেটার পরিমাণ ১,৫৮৭-৩,১৫৭ টাকা।
সাধারণ দোকানগুলোতে এক বেলা খাওয়ার খরচ ২-৫ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৬৩৫-১,৫৮৭ টাকা
যাতায়াত খরচ
ওমানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি, বাস এবং প্রাইভেট কার ভাড়া পাওয়া যায়।
ট্যাক্সি
মাস্কাটে ট্যাক্সি ভাড়া একটু বেশি। এখানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে প্রায় ৩ থেকে ১০ ওমানি রিয়াল খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৯৫২ – ৩,১৭৫ টাকা।
বাস
বাসে ভ্রমণ করলে খরচ কম হবে। মাস্কাট সিটি বাসের ভাড়া সাধারণত ০.২ থেকে ০.৫ ওমানি রিয়াল হয়ে থাকে।
গাড়ি ভাড়া
আপনি চাইলে প্রাইভেট কার ভাড়া নিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ভাড়া প্রায় ১০ থেকে ২০ ওমানি রিয়াল হতে পারে।
নিচে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের খরচের একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
- ট্যাক্সিতে ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ৩-১০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৯৫২-৩,১৭৫ টাকা।
- বাস ভ্রমনের আনুমানিক খরচ ০.২-০.৫ ওমানি রিয়াল ।বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৬৩-১৫৮ টাকা।
- গাড়ি ভাড়ার আনুমানিক খরচ ১০-২০ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৩,১৭৫-৬,৩৫১ টাকা।
ভিসা, প্লেনের টিকিট, থাকা ও খাওয়ার খরচ ছাড়াও আরও কিছু অতিরিক্ত খরচ থাকে যা আপনার হিসাবে যোগ করতে হবে।
ভ্রমণ বীমা
ওমানের জন্য ভ্রমণ বীমা করা বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি খুবই জরুরি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা হলে এই বীমা আপনাকে সাহায্য করবে। ভ্রমণ বীমার খরচ সাধারণত ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
শপিং ও উপহার
ওমান থেকে কিছু স্মৃতিচিহ্ন বা উপহার কেনার জন্য বাজেট রাখতে পারেন। এর জন্য প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।
মোবাইল ও ইন্টারনেট
ওমানে যাওয়ার পর একটি লোকাল সিম কার্ড কিনতে পারেন, যাতে কল করতে ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। এর জন্য প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
জরুরি অবস্থা
সব সময় কিছু টাকা হাতে রাখা ভালো, যা কোনো জরুরি অবস্থায় কাজে লাগতে পারে। এর জন্য অন্তত ১০,০০০ টাকা আলাদা করে রাখতে পারেন।
ওমান ভিসা করার নিয়ম
ওমান যেতে কত টাকা লাগে সেটা জানার পাশাপাশি দেশটির ভিসা করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। নিচে সেখানকার ভিসা করার নিয়ম সম্পর্কে তুলে ধরা হলোঃ
প্রথমে আপনাকে ভিসার প্রকার নির্বাচন করতে হবে। আপনি কি কাজের জন্য যাচ্ছেন, নাকি শুধু ঘুরতে যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিসার প্রকার ভিন্ন হবে।
ওমানের ভিসা আবেদনপত্র অনলাইনে পাওয়া যায়। ওমান রয়েল পুলিশের ওয়েবসাইটে ( লিংক দেওয়া হল:https://www.rop.gov.om/en/visa/) গিয়ে আপনি এটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
ভিসার আবেদন করার জন্য কিছু জরুরি কাগজপত্র দরকার হবে। নিচে এর একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
- ৬ মাস মেয়াদী একটি বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট থাকতে হবে।
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- ভিসা আবেদনপত্র।
- স্পন্সরের চিঠি (যদি থাকে)
- প্লেনের টিকিট ও হোটেলের রিজার্ভেশন কপি।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ব্যাংক বিবরণী।
- অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (ভিসার প্রকার অনুযায়ী)
আবেদনপত্রটি নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে আপনার ভিসা বাতিল হতে পারে।
ভিসার জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। ভিসার প্রকার অনুযায়ী ফি ভিন্ন হতে পারে।
পূরণ করা আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওমান দূতাবাসে বা ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হবে।
কিছু ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে।
আপনার আবেদন সফল হলে ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন।
ওমান কাজের ভিসা খরচ
ওমান যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানা যেমন জরুরী তেমনি জরুরী সেখানকার কাজের ভিসার খরচ সম্পর্কে জানা। ওমান কাজের ভিসা খরচ মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। নিচে এই খরচগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
ওমান কাজের ভিসার জন্য আবেদন ফি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৩৫১৮-৯৫,২৭৭ টাকা।
ওমান যাওয়ার আগে মেডিকেল পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষার খরচ প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়াও, প্লেনের টিকিট, থাকা-খাওয়ার খরচ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ তো আছেই।
ওমান কোন কাজের চাহিদা বেশি?
ওমান যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানার পর এবার জেনে নেব সেখানকার চাহিদা সম্পন্ন কাজগুলো সম্পর্কে। সেখানে বিভিন্ন সেক্টরে কাজের চাহিদা রয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সেক্টর এবং তাদের কাজের চাহিদা উল্লেখ করা হলোঃ
ওমানের নির্মাণ খাতে দক্ষ কর্মীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। রাজমিস্ত্রি, প্লাম্বার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, এবং ওয়েল্ডিংয়ের কাজের জন্য প্রচুর লোক প্রয়োজন। এই খাতে বেতন সাধারণত ভালো হয় এবং কাজের সুযোগও বেশি থাকে।
ওমান একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং রিসোর্টে কাজের সুযোগ অনেক। ওয়েটার, কুক, ট্যুর গাইড, এবং হোটেল ম্যানেজমেন্টের মতো পদে লোক প্রয়োজন হয়।
ওমানে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা সবসময় থাকে। এই খাতে ভালো বেতন এবং সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।
ওমান তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় এই খাতে ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য কারিগরি পদের জন্য প্রচুর লোক প্রয়োজন। এই খাতে কাজের সুযোগ এবং বেতন দুটোই আকর্ষণীয়।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি খাতেও ওমানে কাজের সুযোগ বাড়ছে। প্রোগ্রামার, ওয়েব ডেভেলপার, ডাটা অ্যানালিস্ট এবং সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্টের মতো পদের চাহিদা বাড়ছে।
ওমান বেতন কত?
ওমান যেতে কত টাকা লাগে জানার পাশাপাশি অনেকের মনে দেশটির বেতন কত সেটা সম্পর্কে জানার আগ্রহ জাগে। সেখানকার বেতনের পরিমাণ কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। নিচে বিভিন্ন পেশার আনুমানিক বেতন উল্লেখ করা হলোঃ
- একজন নির্মাণ কর্মীর মাসিক বেতন সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০ ওমানি রিয়াল হতে পারে।
- হোটেল কর্মীদের বেতন সাধারণত ২০০ থেকে ৪০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
- ডাক্তার এবং নার্সদের বেতন সাধারণত ৫০০ থেকে ২০০০ ওমানি রিয়াল বা তার বেশি হতে পারে।
- এই সেক্টরে কর্মীদের বেতন সাধারণত ৬০০ থেকে ৩০০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
- তথ্য প্রযুক্তি কর্মীদের বেতন সাধারণত ৪০০ থেকে ১৫০০ ওমানি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
FAQ (ফ্রিকোয়েন্টলি আস্কড কোয়েশ্চেনস)
প্রশ্ন:ওমানের ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
উত্তর:ওমানের ভিসা পেতে সাধারণত ৫ থেকে ১০ কর্মদিবস লাগে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে এটি বেশি সময় নিতে পারে।
প্রশ্নঃ ওমানে থাকার খরচ কেমন?
উত্তর:ওমানে থাকার খরচ আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে। হোটেল, গেস্ট হাউস এবং অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ভিন্ন ভিন্ন হয়। সাধারণত, প্রতিদিন ৩,৫০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
প্রশ্ন:মাস্কাটে ঘোরার মত কি কি জায়গা আছে?
উত্তর:মাস্কাটে দেখার মতো অনেক সুন্দর জায়গা আছে, যেমন সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মসজিদ, রয়্যাল ওমান অপেরা হাউস, আল জালালি ফোর্ট, মুত্রা সুক ইত্যাদি।
আরো জানুনঃ
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে। বেতন, ভিসা ও কাগজপত্র


