মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫। বেতন, ভিসা ও কাগজপত্র
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে এ পোস্টটি আপনার জন্য। ইউরোপের এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি পর্যটকদের কাছে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আপনিও কি মাল্টা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আপনাকে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে, ভিসা প্রসেসিং, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।
মাল্টা কেন যাবেন?
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা জানার সাথে সাথে দেশটিতে আপনি কেন যাবেন সেটা সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। নিচে সে বিষয়টা সম্পর্কে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলোঃ
- মাল্টায় রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান, যা ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার নীল জলরাশি আর সোনালী বালুকাবেলা পর্যটকদের মন জয় করে নেয়।
- মাল্টার সংস্কৃতিতে বিভিন্ন জাতির প্রভাব দেখা যায়, যা একে করেছে অনন্য।
- মাল্টার অন্যতম সুবিধা হল এখানকার মানুষেরা ইংরেজি ভাষায় কথা বলে, তাই যোগাযোগ করা সহজ।
- মাল্টা ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ, যা একে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে ও খরচের পরিমাণ
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনেকে খরচের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চান। দেশটির ভ্রমণের খরচ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন – বিমানের টিকেট, ভিসার খরচ, থাকা-খাওয়া, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত খরচ। নিচে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
বিমানের টিকেট
ঢাকা থেকে সরাসরি মাল্টার কোনো ফ্লাইট নেই। সাধারণত, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস বা ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজের মতো এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে কানেকটিং ফ্লাইট পাওয়া যায়।
সাধারণত, রিটার্ন টিকেটের মূল্য ৭০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে, সিজন এবং কত আগে টিকেট কাটছেন তার ওপর ভিত্তি করে দাম কমবেশি হতে পারে।
চেষ্টা করুন কয়েক মাস আগে টিকেট বুক করার। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন স্কাইস্ক্যানার গুগল ফ্লাইটস এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটে টিকেট এর দাম তুলনা করে দেখতে পারেন।
ভিসার খরচ
মাল্টা সেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, তাই মাল্টার জন্য সেনজেন ভিসা প্রয়োজন হবে।
ভিসার আবেদন ফি সাধারণত ৮০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ১১,৩০৪ টাকা। এর সাথে অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি ও জমা দেওয়ার খরচ যোগ হতে পারে।
ভিসার জন্য আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন এবং সময় নিয়ে গুছিয়ে আবেদন করুন।
থাকা-খাওয়া
মাল্টাতে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরণের হোটেল, গেস্টহাউস ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
বাজেট অনুযায়ী, প্রতি রাতের জন্য ২,৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
গেস্টহাউস বা এয়ারবিএনবিতে খরচ কিছুটা কম হতে পারে, প্রতি রাতের জন্য ২,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
মাল্টায় বিভিন্ন ধরণের রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে খাবার পাওয়া যায়। সাধারণ মানের রেস্টুরেন্টে প্রতি বেলার খাবার খরচ ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা হতে পারে।
আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখলে ভালো, বিশেষ করে পিক সিজনে। এছাড়া, স্থানীয় বাজার থেকে খাবার কিনে রান্না করে খেলে খরচ কিছুটা কমানো যায়।
ভ্রমণ পরিকল্পনা ও অন্যান্য খরচ
মাল্টাতে ঘোরার জন্য বাস, ট্যাক্সি ও ফেরি সার্ভিস রয়েছে।
বাসের টিকেট সাধারণত ১.৫০ ইউরো থেকে ৩ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে (২১১-৪২৩ টাকা প্রায়)। ট্যাক্সি অথবা রাইড শেয়ারিং-এর খরচ নির্ভর করে দূরত্বের ওপর।
বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের জন্য টিকেট কাটতে হতে পারে, যার মূল্য ১০ থেকে ২৫ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
এর বাইরে ব্যক্তিগত খরচ, যেমন – শপিং, স্ন্যাকস এবং অন্যান্য বিনোদনের জন্য কিছু টাকা রাখতে পারেন।
খরচের একটি আনুমানিক হিসাব
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে জানার সাথে সাথে এবার সেখানকার খরচের একটি আনুমানিক হিসাব সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। যদি আপনি ৭ দিনের জন্য সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনার আনুমানিক খরচ হতে পারেঃ
- বিমানের টিকেট বাবদ আনুমানিক খরচ ৭০,০০০-১,২০,০০০ টাকা।
- ভিসার আনুমানিক খরচ ১০,০০০ টাকা।
- থাকা (৭রাত ) আনুমানিক খরচ ১৪,০০০-৭০,০০০ টাকা।
- প্রতিদিন ২,০০০ টাকা করে ৭ দিনে খাওয়ার আনুমানিক খরচ ১৪,০০০ টাকা।
- পরিবহন ও দর্শনীয় স্থানের আনুমানিক খরচ ১০,০০০ টাকা।
- অন্যান্য খরচ ৬,০০০ টাকা।
- মোট খরচের পরিমাণ ১,২৪,০০০-২,৩০,০০০ টাকা।
এই হিসাবটি একটি আনুমানিক ধারণা। আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা ও খরচের ওপর ভিত্তি করে এটি কমবেশি হতে পারে।
মাল্টা যেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা জানার সাথে সাথে এবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। দেশটিতে ভ্রমণের জন্য ভিসার আবেদন করার সময় কিছু জরুরি কাগজপত্র দাখিল করতে হয়। নিচে সেটার একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
- ৬ মাস মেয়াদি একটি বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট থাকতে হবে।
- সঠিকভাবে পূরণ করা এবং স্বাক্ষর করা।
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি প্রয়োজন।
- যদি আপনার আগে সেনজেন ভিসা থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর কপি।
- ট্যাক্স রিটার্নের কপি।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ক্রেডিট কার্ডের কপি।
- ভ্রমণের তারিখ, হোটেলের রিজার্ভেশন এবং প্লেনের টিকিটের কপি।
- আপনার পেশা সম্পর্কে প্রমাণপত্র, যেমন – আইডি কার্ড, ছুটির আবেদনপত্র ইত্যাদি।
মাল্টার ভিসা কিভাবে পাবেন?
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনেকে দেশটির ভিসা কিভাবে পাবেন সেটা সম্পর্কে প্রশ্ন করে থাকেন। দেশটির ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এখানে একটি ধাপে ধাপে গাইড দেওয়া হলোঃ
প্রথমে আপনাকে ভিসার প্রকার নির্বাচন করতে হবে। সাধারণত,পর্যটনের জন্য শর্ট-টার্ম সেনজেন ভিসা প্রয়োজন হয়।
- মাল্টার ভিসা আবেদনপত্র অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- উপরে উল্লেখিত কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করুন।
- মাল্টার ভিসা আবেদন করার জন্য আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
- ভিসা ফি পরিশোধ করার রশিদ সংরক্ষণ করুন।
- সাক্ষাৎকারের জন্য তৈরি থাকুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সব প্রশ্নের উত্তর দিন।
- আপনার ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
মাল্টার বেতন কাঠামো
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানা যেমন জরুরী তেমনি জরুরী সেখানকার বেতন কাঠামো সম্পর্কে জানা। সেখানকার বেতন কাঠামো বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, এখানে কাজের বেতন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা কম।
- মাল্টার আইন অনুযায়ী, কর্মীদের জন্য একটি ন্যূনতম বেতন নির্ধারিত আছে।
- বিভিন্ন সেক্টরে গড় বেতন মাসে ১,২০০ থেকে ২,৫০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
- অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে বেতনও বাড়তে থাকে।
সরকারিভাবে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে?
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানানোর পর এবার জানাবো সরকারিভাবে দেশটিতে যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে। সরকারিভাবে সেখানে যেতে সাধারণত ভিসা, টিকেট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচগুলো বহন করতে হয়। সরকারিভাবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত খরচ কম হয়, তবে এক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়া কঠিন। সরকারিভাবে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে তা নির্ভর করে কোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে যাচ্ছেন তার ওপর।
বেসরকারিভাবে মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে?
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে সেটা জানার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে সেখানে যেতে কত টাকা প্রয়োজন সেটা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। বেসরকারিভাবে মাল্টা যেতে সাধারণত বেশি খরচ হয়। এক্ষেত্রে ভিসা, টিকেট, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়। বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে, তবে তাদের সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
FAQ(প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)
প্রশ্নঃমাল্টা যেতে ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
উত্তরঃসাধারণত, মাল্টার ভিসা পেতে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে, এটি দূতাবাসের কাজের চাপ এবং আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্নঃমাল্টায় থাকার জন্য সেরা সময় কোনটি?
উত্তরঃমাল্টায় ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হলো এপ্রিল থেকে জুন মাস এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস। এই সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে এবং পর্যটকদের ভিড়ও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
প্রশ্নঃমাল্টার প্রধান ভাষা কি?
উত্তরঃমাল্টার প্রধান ভাষা হলো মাল্টিজ এবং ইংরেজি। এখানকার প্রায় সবাই ইংরেজি বলতে পারে, তাই যোগাযোগ করতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
প্রশ্নঃমাল্টায় কি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: মাল্টার অধিকাংশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও দোকানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যায়। তবে, ছোট দোকান বা বাজারে নগদ টাকা ব্যবহার করাই ভালো।
আরো জানুনঃ
মরক্কো ভিসার দাম কত? আপডেট জানুন
পোল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়


