ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে (আপডেট তথ্য)
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে সেটা জেনে দেশটিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে এ পোস্টটি আপনার জন্য। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে কান চলচ্চিত্র উৎসব, ফ্রান্স যেন রূপকথার জগৎ। কিন্তু এই রূপকথার দেশে পা রাখতে আপনার কত টাকা খরচ হবে,তা জানা দরকার।
ভিসা, বিমান ভাড়া, থাকা খাওয়া সবকিছু মিলিয়ে একটা বাজেট তৈরি করা দরকার,তাই না? আজকের এই পোস্টটিতে আমরা ফ্রান্স ভ্রমণ নিয়ে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেব,যাতে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার স্বপ্নের ফ্রান্স ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
ফ্রান্স ভ্রমণে কত খরচ হবে
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে সেটার বিস্তারিত হিসাব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। দেশটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে খরচের একটা হিসাব রাখা দরকার। আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা, ভিসার ধরন, থাকার ব্যবস্থা, এবং অন্যান্য খরচ সম্পর্কে ধারণা থাকলে বাজেট তৈরি করা সহজ হবে। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রান্স ভিসার খরচ
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানার পাশাপাশি ভিসার খরচ সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। দেশটিতে যেতে হলে প্রথমেই ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ভিসার খরচ সাধারণত ভিসার ধরনের ওপর নির্ভর করে। ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, বা কাজের ভিসা – প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।
- ট্যুরিস্ট ভিসাঃ সাধারণত ৮০ ইউরো (প্রায় ৯,৫০০ টাকা)
- স্টুডেন্ট ভিসাঃ প্রায় ৫০ ইউরো (প্রায় ৬,০০০ টাকা)
- কাজের ভিসাঃ এই ভিসার খরচ ভিন্ন হতে পারে,সাধারণত এটি ১৩০-১৮০ ইউরোর মধ্যে থাকে (১৫,৫০০ – ২১,৫০০ টাকা)।
ভিসার আবেদন করার সময় ছবি, পাসপোর্ট, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে।
ফ্রান্সের বিমান টিকিটের দাম
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানার পাশাপাশি এবার দেশটির বিমান টিকিটের দাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক। ফ্রান্সের বিমান টিকিটের দাম কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে,যেমনঃ
- কোন সময়ে আপনি টিকিট কাটছেন (হাই সিজন নাকি লো সিজন ) সেটার উপর।
- কোন এয়ারলাইন্সে আপনি ভ্রমণ করছেন।
- সাধারণত আগে কাটলে দাম কিছুটা কম হয়।
সাধারণভাবে,ঢাকা থেকে প্যারিসের রিটার্ন টিকিটের দাম ৭০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আপনি যদি আগে থেকে টিকিট কাটেন এবং অফ সিজনে ভ্রমণ করেন,তাহলে খরচ কমাতে পারবেন।
ফ্রান্সে থাকার খরচ
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানতে গিয়ে অনেকের মনে দেশটিতে থাকার খরচ সম্পর্কে প্রশ্ন জাগে। সেখানে থাকার খরচ আপনার চাহিদার ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে চান, তাহলে খরচ অনেক বেশি হবে। অন্যদিকে, আপনি যদি হোস্টেল বা এয়ারবিএনবি-তে থাকেন, তাহলে খরচ কিছুটা কম হবে।
নিচে একটি আনুমানিক খরচের হিসাব দেওয়া হলোঃ
- হোস্টেলে প্রতি রাতে থাকার খরচ ২০-৪০ ইউরো (২,৪০০ – ৪,৮০০ টাকা)
- এয়ারবিএনবি প্রতি রাতে থাকার খরচ ৫০-১০০ ইউরো (৬,০০০ – ১২,০০০ টাকা)
- সাধারণ মানের হোটেলে প্রতি রাতে থাকার খরচ ৮০-১৫০ ইউরো (৯,৫০০ – ১৮,০০০ টাকা)
- বিলাসবহুল হোটেলে প্রতি রাতে থাকার খরচ ২০০ ইউরো বা তার বেশি (২৪,০০০+ টাকা)
ফ্রান্সে খাবার খরচ
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানাতে গিয়ে এবার জানাবো দেশটির খাবার খরচ সম্পর্কে। সেখানকার খাবার জগৎ বিখ্যাত। এখানে বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেতে আপনি স্থানীয় খাবার উপভোগ করতে পারবেন। আপনার খাবারের বাজেট কেমন হবে, তা নির্ভর করে আপনি কোথায় খাচ্ছেন।
- কম দামি রেস্টুরেন্টে প্রতি বেলায় খাবার খরচ ১৫-২৫ ইউরো (১,৮০০ – ৩,০০০ টাকা)
- মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে প্রতি বেলায় খাবার খরচ ৩০-৫০ ইউরো (৩,৬০০ – ৬,০০০ টাকা)
- বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে প্রতি বেলায় খাবার খরচ ৭০ ইউরো বা তার বেশি (৮,৪০০+ টাকা)
আপনি যদি সুপারমার্কেট থেকে খাবার কিনে রান্না করেন, তাহলে খরচ কমাতে পারবেন। এছাড়া, বিভিন্ন বেকারিতে স্বল্প মূল্যে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।
ফ্রান্স ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানার পাশাপাশি দেশটিতে ভ্রমণ ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। থাকা-খাওয়া ও বিমান ভাড়া ছাড়াও আরও কিছু খরচ রয়েছে, যা আপনার বাজেট তৈরীর সময় মনে রাখতে হবে।
- মেট্রো, বাস, ট্রাম – এগুলোর টিকেট কাটতে হবে। দৈনিক পরিবহন খরচ ৫-১০ ইউরো (৬০০ – ১,২০০ টাকা) হতে পারে।
- বিভিন্ন জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশের জন্য টিকেট কাটতে হয়। প্রতিটি স্থানের টিকেট সাধারণত ১৫-২০ ইউরো (১৮০০ – ২,৪০০ টাকা) হয়ে থাকে।
- ফ্রান্স ফ্যাশনের জন্য বিখ্যাত, তাই কেনাকাটার জন্য বাজেট রাখা ভালো।
- রোমিং চার্জ বা লোকাল সিম কার্ড কিনতে হতে পারে।
- অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ভ্রমণ বীমা করানো ভালো।
ফ্রান্সের টুরিস্ট ভিসা খরচ
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে জানার সাথে সাথে এবার আমরা দেশটির টুরিস্ট ভিসা সম্পর্কে জেনে নিব। সেখানকার ট্যুরিস্ট ভিসা খরচ সাধারণত ৮০ ইউরো (প্রায় ৯,৫০০ টাকা)। এই ভিসা থাকলে আপনি ইউরোপের অনেক দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। ভিসার জন্য আবেদন করার সময় সব কাগজপত্র নির্ভুলভাবে জমা দিতে হবে।
ফ্রান্সের ভিসা পাওয়ার উপায়
ফ্রান্সের ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হলো:
- আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্যের সাথে মিল রেখে সঠিক ভিসা নির্বাচন করুন।
- প্পাসপোর্ট, ছবি, ভ্রমণ পরিকল্পনা, আর্থিক প্রমাণপত্র – সবকিছু প্রস্তুত রাখুন।
- ভিসার জন্য সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হলে আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিন।
- নির্ভুলভাবে আবেদনপত্র পূরণ করুন।
- আপনার ফ্রান্স থাকার খরচ বহনের জন্য যথেষ্ট টাকা আছে, তা প্রমাণ করতে হবে।
ফ্রান্সের ভিসা আবেদন করার নিয়ম
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে সেটা সম্পর্কে জানা যেমন জরুরী তেমনি জরুরী দেশটির ভিসা আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানা। সেখানকার ভিসা আবেদন করার নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
- সঠিক ভিসার ধরন নির্বাচন করুন।
- আবেদনপত্র অনলাইন থেকে ডাউনলোড করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করুন।
- সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
- ভিসা ফি পরিশোধ করুন।
- আবেদনপত্র জমা দিন।
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে?
ফ্রান্স যেতে কত টাকা লাগে তার একটা আনুমানিক ধারণা দেওয়া হলো। এই হিসাবটি একটি আনুমানিক বাজেট,যা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে।
- আনুমানিক ভিসা খরচ ৮০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৯,৫০০ টাকা।
- বিমান টিকেটের আনুমানিক খরচ ৬০০-১২০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৭০,০০০-১,৫০,০০০ টাকা।
- ৭ দিন থাকার আনুমানিক খরচ ২৮০-১৪০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৩৩,০০০-১,৬৮,০০০ টাকা।
- ৭ দিন খাবার আনুমানিক খরচ ২১০-৪৯০ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ২৫,০০০-৫৮,০০০ টাকা।
- ৭ দিন পরিবহনের আনুমানিক খরচ ৩৫-৭০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৪,২০০-৮,৪০০ টাকা।
- কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের আনুমানিক খরচ ৫০-১০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৬,০০০-১২,০০০ টাকা।
- অন্যান্য খরচ ৫০-১৫০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৬,০০০-১৮,০০০ টাকা।
- মোট খরচ ১,৩০৫-৩,৪৯০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ১,৫৪,৭০০-৪,১২,০০০ টাকা।
এই হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহের জন্য ফ্রান্স ভ্রমণে আপনার প্রায় ১,৫৪,৭০০ থেকে ৪,১২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
FAQs
প্রশ্নঃ ফ্রান্সের ভিসার জন্য কতদিন আগে আবেদন করা উচিত?
উত্তরঃ সাধারণত, ভ্রমণের কমপক্ষে ২-৩ মাস আগে ভিসার জন্য আবেদন করা উচিত।
প্রশ্নঃ ফ্রান্সে ঘোরার জন্য সেরা সময় কখন?
উত্তরঃ এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস ফ্রান্স ঘোরার জন্য সেরা। এই সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকে এবং পর্যটকদের ভিড় কম থাকে।
প্রশ্নঃ ফ্রান্সে থাকার জন্য সবচেয়ে সস্তা জায়গা কোথায়?
উত্তরঃ ফ্রান্সে থাকার জন্য সবচেয়ে সস্তা জায়গা হলো হোস্টেল এবং এয়ারবিএনবি।
প্রশ্নঃ ফ্রান্সের জনপ্রিয় কিছু দর্শনীয় স্থান কী কী?
উত্তরঃ ফ্রান্সের জনপ্রিয় কিছু দর্শনীয় স্থান হলো আইফেল টাওয়ার, ল্যুভর মিউজিয়াম, নটরডেম ক্যাথেড্রাল, এবং ভার্সাই প্রাসাদ।
আরো জানুনঃ


