ব্রাজিল ভিসা। খরচ, বেতন,আবেদন ও দরকারি তথ্য
ব্রাজিল, এই নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোপাকাবানার সৈকত, অ্যামাজনের সবুজ অরণ্য আর রিও ডি জেনিরোর প্রাণবন্ত কার্নিভাল। আপনিও কি স্বপ্ন দেখছেন এই সুন্দর দেশটিতে ঘুরে আসার? তাহলে আপনার জন্য দরকার হবে একটি ব্রাজিল ভিসা।
ভিসা পাওয়া কিন্তু খুব কঠিন কিছু নয়। একটু জেনে বুঝে আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া সম্ভব। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা আলোচনা করব ব্রাজিল ভিসার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে।
ব্রাজিল ভিসার প্রকারভেদ
ব্রাজিলে বিভিন্ন কারণে মানুষ ভ্রমণ করে থাকে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ভিসার প্রকারভেদও ভিন্ন হয়ে থাকে। আসুন, প্রথমেই জেনে নেই ব্রাজিলের ভিসার প্রকারভেদ সম্পর্কেঃ
| ভিসার প্রকার | উদ্দেশ্য | মেয়াাদ |
|---|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা | পর্যটন, বিনোদন | ৯০ দিন পর্যন্ত |
| বিজনেস ভিসা | ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ, মিটিং, কনফারেন্স | ৯০ দিন পর্যন্ত |
| স্টুডেন্ট ভিসা | পড়াশোনা, গবেষণা | কোর্স এর মেয়াদ অনুযায়ী |
| ওয়ার্ক ভিসা | চাকরি, পেশাগত কাজ | ২ বছর পর্যন্ত (নবায়নযোগ্য) |
| ভিজিট ভিসা | বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে দেখা করা | ৯০ দিন পর্যন্ত |
| পার্মানেন্ট ভিসা | স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য | মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত |
ব্রাজিল টুরিস্ট ভিসা
ব্রাজিলে ঘুরতে যেতে চান? তাহলে আপনার জন্য টুরিস্ট ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে আপনি ৯০ দিন পর্যন্ত ব্রাজিল ভ্রমণ করতে পারবেন।
- এই ভিসার জন্য আপনার কিছু জরুরি কাগজপত্র লাগবে, যেমন – বৈধ পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকেট, হোটেলের রিজার্ভেশন এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ।
- অনলাইনে আবেদন করতে পারেন অথবা ব্রাজিলিয়ান কনস্যুলেট বা দূতাবাসে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
ব্রাজিল বিজনেস ভিসা
যদি আপনার ব্যবসার কাজে ব্রাজিল যেতে হয়, তাহলে বিজনেস ভিসা আপনার জন্য। মিটিং, কনফারেন্স বা অন্য কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই ভিসা ব্যবহার করা যায়।
- বিজনেস ভিসার জন্য আপনার আমন্ত্রণপত্র, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন পেপার এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কিত কাগজপত্র লাগবে।
- টুরিস্ট ভিসার মতোই, অনলাইনে অথবা সরাসরি কনস্যুলেটে আবেদন করতে পারেন।
ব্রাজিল স্টুডেন্ট ভিসা
ব্রাজিলে পড়াশোনা করতে চান? তাহলে স্টুডেন্ট ভিসা আপনার জন্য। এই ভিসা আপনাকে ব্রাজিলের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেবে।
- স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তির প্রমাণপত্র, একাডেমিক রেকর্ড এবং আর্থিক সহায়তার প্রমাণ লাগবে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অথবা সরাসরি কনস্যুলেটে আবেদন করতে পারেন।
ব্রাজিল ওয়ার্ক ভিসা
ব্রাজিলে চাকরি করতে চান? তাহলে ওয়ার্ক ভিসা আপনার জন্য। এই ভিসা আপনাকে ব্রাজিলের কোনো কোম্পানিতে কাজ করার অনুমতি দেবে।
ওয়ার্ক ভিসার জন্য আপনার চাকরির চুক্তিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র লাগবে। সাধারণত কোম্পানি আপনার হয়ে এই ভিসার জন্য আবেদন করে থাকে।
ব্রাজিল ভিসা আবেদন করার নিয়ম
ব্রাজিল ভিসার জন্য আবেদন করা খুব কঠিন নয়। কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই আপনি সহজেই আবেদন করতে পারবেন। চলুন, ধাপে ধাপে জেনে নেইঃ
- ভিসার প্রকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, ছবি, আবেদনপত্র, আর্থিক প্রমাণপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করুন।
- ব্রাজিলিয়ান কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরমটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
- ভিসা ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন এবং রসিদ সংগ্রহ করুন।
- দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তারিখে সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকুন।
- ভিসা অফিসার আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন এবং কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিন।
- আপনার ভিসা অনুমোদিত হলে, কনস্যুলেট থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্রাজিল ভিসা আবেদন ফরম
ব্রাজিল ভিসা আবেদন করার প্রথম ধাপ হলো ফরম পূরণ করা। অনলাইনে এই ফরম পাওয়া যায়। ফরমটি নির্ভুলভাবে পূরণ করা খুবই জরুরি।
ব্রাজিলিয়ান কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসার আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করুন। এরপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ইত্যাদি তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন।
ফরম পূরণ করার সময় খুব সতর্ক থাকুন। কোনো ভুল তথ্য দেবেন না। প্রতিটি ঘর ভালোভাবে পড়ে পূরণ করুন।
ব্রাজিল ভিসা আবেদন করার ওয়েবসাইট
অনলাইনে ব্রাজিল ভিসার জন্য আবেদন করতে চান? তাহলে সঠিক ওয়েবসাইটটি খুঁজে বের করা খুবই জরুরি।
সাধারণত ব্রাজিলিয়ান কনস্যুলেট বা দূতাবাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ভিসার আবেদন ফরম এবং অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়। এই ওয়েবসাইটে আপনি ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
ব্রাজিল ভিসা ফি
ভিসা ফি ভিসার প্রকারের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, টুরিস্ট ভিসা এবং বিজনেস ভিসার ফি একই হয়ে থাকে।
| ভিসার প্রকার | ফি (USD) | ফি (টাকা) |
|---|---|---|
| টুরিস্ট ভিসা | $৮০ | ৯,৭০০ টাকা প্রায়। |
| বিজনেস ভিসা | $৮০ | ৯,৭০০ টাকা প্রায়। |
| স্টুডেন্ট ভিসা | $৪০ | ৪,৮০০ টাকা প্রায়। |
| ওয়ার্ক ভিসা | $১৫০ | ১৮,০০০ টাকা প্রায়। |
ভিসা ফি সাধারণত অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমেও পরিশোধ করার সুযোগ থাকে।
ব্রাজিল ভিসা খরচ টেবিল
ব্রাজিল যেতে আপনার কেমন খরচ হতে পারে তার একটা ধারণা দেওয়া হলোঃ
| খরচের খাত | আনুমানিক খরচ (USD) | আনুমানিক খরচ (টাকা) |
|---|---|---|
| ভিসা ফি | $৪০ – $১৫০ | ৪,৮০০- ১৮,০০০ টাকা প্রায়। |
| বিমান ভাড়া | $৮০০ – $১৫০০ | ৯৭,০০০- ১,৮৩,০০০ টাকা প্রায়। |
| হোটেল খরচ (প্রতি রাত) | $৫০ – $২০০ | ৬,০০০- ২৪,০০০ টাকা প্রায়। |
| খাবার খরচ (প্রতিদিন) | $৩০ – $১০০ | ৩,৬০০-১২,০০০ টাকা প্রায়। |
| অভ্যন্তরীণ পরিবহন | $২০ – $৫০ | ২,৪০০-৬,০০০ টাকা প্রায়। |
ব্রাজিল ভিসা ইন্টারভিউ
ভিসা ইন্টারভিউ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে ভিসা অফিসার আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আপনার সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করবেন।
- ইন্টারভিউয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন। আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ব্রাজিলের কোথায় থাকবেন, কি কি দেখবেন – এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
- ভিসা অফিসার সাধারণত আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণের কারণ, আর্থিক অবস্থা এবং ব্রাজিলে থাকার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।
ব্রাজিল ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময়
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময় সাধারণত ভিসার প্রকার এবং আবেদনের সময়কালের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, টুরিস্ট ভিসা এবং বিজনেস ভিসার জন্য ৫ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক ভিসার জন্য একটু বেশি সময় লাগতে পারে, প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন।
ব্রাজিল ভিসা পাওয়ার সহজ উপায়
ব্রাজিল ভিসা পাওয়া কঠিন কিছু নয়। কিছু টিপস অনুসরণ করলে আপনি সহজেই ভিসা পেতে পারেনঃ
- আপনার ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিন। কোনো ভুল তথ্য দেবেন না।
- প্রমাণ করুন যে আপনার ব্রাজিলে থাকার মতো যথেষ্ট টাকা আছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক প্রমাণপত্র জমা দিন।
- ইন্টারভিউয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন। আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রশ্নের উত্তর দিন।
- আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করুন। আপনি কেন ব্রাজিল যেতে চান, তা বুঝিয়ে বলুন।
ব্রাজিল ভিসা আবেদন করার যোগ্যতা
ব্রাজিল ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু যোগ্যতা থাকা দরকার। এগুলো হলোঃ
- বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তার ব্রাজিলে থাকার মতো যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য আছে।
- আবেদনকারীর কোনো প্রকার ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকা চলবে না।
- সঠিক ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে।
ব্রাজিল ভিসায় কী কী কাজ পাওয়া যায় ও বেতন
ব্রাজিলে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনিও সেখানে কাজ খুঁজে নিতে পারেন।
| কাজের ক্ষেত্র | আনুমানিক বেতন (BRL) | আনুমানিক বেতন (টাকা) |
|---|---|---|
| আইটি সেক্টর | ৫,০০০ – ১০,০০০ | ১,১৫,০০০-২,৩০,০০০ টাকা প্রায়। |
| ইঞ্জিনিয়ারিং | ৬,০০০ – ১২,০০০ | ১,৩৮,০০০-২,৭৬,০০০ টাকা প্রায়। |
| ট্যুরিজম | ৩,০০০ – ৬,০০০ | ৬৯,০০০-১,৩৮,০০০ টাকা প্রায়। |
| শিক্ষকতা | ৪,০০০ – ৮,০০০ | ৯২,০০০-১,৮৪,০০০ টাকা প্রায়। |
| স্বাস্থ্যসেবা | ৫,০০০ – ১০,০০০ | ১,১৫,০০০-২,৩০,০০০ টাকা প্রায়। |
ব্রাজিল ভিসা বাতিলকরণ
কিছু কারণে আপনার ব্রাজিল ভিসা বাতিল হতে পারে। যেমনঃ
- ভিসার জন্য ভুল তথ্য প্রদান করলে।
- ব্রাজিলের আইন ভঙ্গ করলে।
- ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং আপনি অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করলে।
ব্রাজিল ভিসা হেল্পলাইন
ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে আপনি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসের ওয়েবসাইটে হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া থাকে। এছাড়া, আপনি ইমেইলের মাধ্যমেও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
ব্রাজিল ভিসা এজেন্সি
ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করলে আপনার কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তারা আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে। ভালো ভিসা এজেন্সি খুঁজে বের করার জন্য তাদের অভিজ্ঞতা, খ্যাতি এবং গ্রাহক পরিষেবা সম্পর্কে জেনে নিন।
আরো জানুনঃ
- কাতারের ভিসার দাম কত জেনে নিন (আপডেট তথ্য)
- বেলারুশ কাজের ভিসা বেতন কত (আপডেট তথ্য)
- আলবেনিয়া ভিসা আপডেট। নতুন নিয়মকানুন ও দরকারি তথ্য


