পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫ জেনে নিন।
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে সেটা জেনে দেশটিতে যাওয়ার কথা ভাবছেন ? তাহলে এ পোস্টটি আপনার জন্য। দেশটিতে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর দারুণ সব সমুদ্র সৈকত। ইউরোপের এই দেশটিতে প্রতি বছর ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক। আপনিও কি পর্তুগাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে?
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে তার বিস্তারিত হিসাব
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে সেটার বিস্তারিত হিসাব সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। পর্তুগাল ভ্রমণের খরচ কয়েকটি প্রধান অংশের ওপর নির্ভরশীল। এই খরচগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারলে আপনি নিজের বাজেট অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারবেন। নিচে প্রতিটি অংশের বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
১। ভিসা খরচ
পর্তুগালে যেতে ভিসার আবেদন করা প্রথম ধাপ। ভিসার খরচ আপনার ভিসার ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, পর্তুগালের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করার পরে ভিসা ফি পরিশোধ করতে হয়।
পর্তুগাল ভিসার দাম কত? পর্তুগালের ভিসার দাম সাধারণত ৮০ ইউরো হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১,৩৫৯ টাকার কাছাকাছি। তবে, স্টুডেন্ট ভিসা বা অন্য কোনো বিশেষ ভিসার ক্ষেত্রে এই খরচ ভিন্ন হতে পারে। ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য বিভিন্ন সার্ভিস প্রোভাইডার অতিরিক্ত ফি নিতে পারে।
পর্তুগাল ভিসা আবেদন করার নিয়মঃ পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে প্রথমে অনলাইনে ভিসার আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন – পাসপোর্ট, ছবি, ভ্রমণ পরিকল্পনা, এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণপত্রসহ ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হবে। আবেদনের সময় ফি পরিশোধ করতে হয়।
পর্তুগাল ভিসা আবেদন করতে কি কি লাগে? পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদনের সময় কিছু জরুরি কাগজপত্র লাগে। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
- ৬ মাস মেয়াদী একটি বৈধ এবং গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট।
- ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করে স্বাক্ষর করা
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- আগের ভিসার কপি (যদি থাকে)।
- যাতায়াতের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ।
- ভ্রমণ বীমা।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক সামর্থের প্রমাণ।
- পর্তুগালে থাকার আমন্ত্রণপত্র (যদি থাকে)
২। প্লেনের টিকেট
বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালে যাওয়ার বিমান ভাড়া আপনার বাজেটের একটি বড় অংশ। সাধারণত, ঢাকা থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। তাই আপনাকে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে হবে।
প্লেনের টিকেটের দাম সাধারণত সময়ের ওপর নির্ভর করে। পিক সিজনে (যেমন – গ্রীষ্মকালে বা বড় কোনো ছুটির সময়) দাম বেশি থাকে। অফ সিজনে তুলনামূলকভাবে কম দামে টিকেট পাওয়া যায়। টিকেট সাধারণত এয়ারলাইন্স এবং সময়ের উপর নির্ভর করে কম বেশি হতে পারে।
- ইকোনমি শ্রেণিঃ ৭০,০০০ – ১,২০,০০০ টাকা।
- ব্যবসায়িক শ্রেণিঃ ১,৫০,০০০ – ২,৫০,০০০ টাকা। নিচে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলোঃ
- জানুয়ারি – মার্চ মাসে ঢাকা থেকে লিসবন টিকেটের আনুমানিক মূল্য ৭০,০০০-৯০,০০০ টাকা।
- এপ্রিল- জুন মাসে ঢাকা থেকে লিসবন টিকেটের আনুমানিক মূল্য ৯০,০০০-১,১০,০০০ টাকা।
- জুলাই -সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা থেকে লিসবন টিকেটের আনুমানিক মূল্য ১,১০,০০০-১,৩০,০০০ টাকা।
- অক্টোবর- ডিসেম্বর মাসে ঢাকা থেকে লিসবন টিকেটের আনুমানিক মূল্য ৮০,০০০-১,০০,০০০ টাকা।
৩। থাকার খরচ
পর্তুগালে থাকার খরচ আপনার পছন্দ এবং বাজেটের ওপর নির্ভর করে। এখানে বিভিন্ন ধরনের হোটেল, গেস্টহাউস ও হোস্টেল রয়েছে।
- যদি আপনি ব্যাকপ্যাকার হন, তাহলে হোস্টেল আপনার জন্য সেরা। এখানে সাধারণত প্রতি রাতে ১৫-৩০ ইউরোর মধ্যে থাকা যায়। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ২,১২৯-৪,২৫৯ টাকা।
- মাঝারি মানের গেস্টহাউস বা হোটেলে থাকতে সাধারণত প্রতি রাতে ৪০-৭০ ইউরো খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৫,৬৭৯-৯,৯৩৯ টাকা।
- বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে চাইলে প্রতি রাতে ১০০ ইউরোর বেশি খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ১৪,১৯৯ টাকা।
- নিচে বিভিন্ন ধরনের আবাসনের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলোঃ
- হোস্টেলে প্রতি রাতে থাকার খরচ ১৫ -৩০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ২,১২৯-৪,২৫৯ টাকা।
- গেস্ট হাউজগুলোতে প্রতি রাতে থাকার খরচ ৪০-৭০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৫,৬৭৯-৯,৯৩৯ টাকা।
- বাজেট হোটেলের প্রতি রাতে থাকার খরচ ৫০-৮০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৭,০৯৯-১১,৩৫৯ টাকা।
- লাক্সারি হোটেলে প্রতি রাতের খরচ ১০০+ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ১৪,১৯৯ টাকা বা তারও বেশি।
৪। খাবার খরচ
পর্তুগালে খাবারের খরচ বেশ যৌক্তিক। আপনি যদি লোকাল রেস্টুরেন্টে খান, তাহলে কম খরচে ভালো খাবার পাওয়া যায়।
- ছোট রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে এক বেলার খাবার খরচ ৫-১০ ইউরো হতে পারে।
- মাঝারি মানের রেস্টুরেন্ট খাবার খেতে সাধারণত ১৫-২৫ ইউরো খরচ হবে।
- দামী রেস্টুরেন্টে খেতে চাইলে ২৫ ইউরোর বেশি খরচ হতে পারে।
খাবারের খরচ কমাতে চাইলে লোকাল মার্কেট থেকে খাবার কিনে নিজের খাবার নিজে তৈরি করে নিতে পারেন।
৫। দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ খরচ
পর্তুগালে দেখার মতো অনেক সুন্দর জায়গা আছে। প্রতিটি স্থানের টিকেটের মূল্য সাধারণত ভিন্ন হয়।
ঐতিহাসিক স্থান: পর্তুগালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে ৫-১৫ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
মিউজিয়াম: মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে সাধারণত ৫-১০ ইউরো লাগে।
পরিবহন খরচ: পর্তুগালে শহরগুলোর মধ্যে বাসের টিকেট কাটতে ২-৫ ইউরো লাগতে পারে।।
৬। অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচ
পর্তুগালে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে বা শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য আপনাকে পরিবহন ব্যবহার করতে হবে।
বাস: পর্তুগালে বাসের টিকেট বেশ সস্তা। ছোট দূরত্বের জন্য ২-৫ ইউরো লাগে।
ট্রেন: দূরের পথের জন্য ট্রেন ভালো বিকল্প। টিকেটের দাম ১৫-৫০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
ট্রাম ও মেট্রো: লিসবন ও পোর্তোর মতো শহরে ট্রাম ও মেট্রো সার্ভিস রয়েছে। এক দিনের টিকিটের দাম ৬-৭ ইউরো।
৭। অন্যান্য খরচ
ভ্রমণের সময় কিছু অতিরিক্ত খরচও হতে পারে, যা আপনার বাজেটকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভ্রমণ বীমা: অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ভ্রমণ বীমা করা ভালো। এর জন্য ২০-৫০ ইউরো খরচ হতে পারে।
শপিং: স্যুভেনিয়ার বা অন্য কিছু কিনতে চাইলে বাজেট রাখতে পারেন।
টিপস: রেস্টুরেন্ট বা অন্য কোনো সেবার জন্য টিপস দেওয়া ভালো।
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে তার একটি আনুমানিক হিসাব
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে তার একটা আনুমানিক হিসাব সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে সেখানে যেতে কত টাকা লাগে তার একটা ধারণা দেওয়া হলো। এই হিসাবটি একটি আনুমানিক হিসাব। আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ ও খরচের ওপর ভিত্তি করে এটি কম-বেশি হতে পারে।
- ভিসার আনুমানিক খরচ ৮০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ১১,৩৫৯ টাকা।
- প্লেনের টিকেটের আনুমানিক খরচ (যাওয়া- আসা) ৬০০-১,০০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৮৫,১৯৪-১,৪১,৯৯০ টাকা।
- প্রতিদিনের থাকার আনুমানিক খরচ ৩০-১০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৪,২৫৯-১৪,১৯৯ টাকা।
- প্রতিদিন খাবারের আনুমানিক খরচ ১৫-২৫ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ২,১২৯-৩,৫৪৯ টাকা।
- দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের আনুমানিক খরচ ৫০-১৫০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমাণ ৭,০৯৯-২১,২৯৮ টাকা।
অভ্যন্তরীণ পরিবহনের মোট খরচ ৩০-৭০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৪,২৫৯-৯,৯৩৯ টাকা।
অন্যান্য খরচ ৫০-১০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ৭,০৯৯-১৪,১৯৯ টাকা।
৭ দিনের জন্য মোট খরচ ১০০০-২০০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যেটার পরিমান ১,৪১,৯৯৯-২,৮৩,৯৮০ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, এক জন ব্যক্তির ৭ দিনের জন্য পর্তুগাল ভ্রমণ করতে প্রায় ১,২০,০০০ থেকে ২,৪০,০০০ টাকা লাগতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে জানার সাথে সাথে এবার বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। সেখানে যেতে হলে আপনাকে কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। নিচে একটি সাধারণ গাইডলাইন দেওয়া হলোঃ
- পর্তুগালে যাওয়ার প্রথম শর্ত হলো ভিসার জন্য আবেদন করা। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে সঠিকভাবে আবেদন করতে হবে।
- ভিসার পর প্লেনের টিকেট কাটতে হবে। চেষ্টা করুন আগে থেকে টিকেট কাটার, যাতে খরচ কিছুটা কমানো যায়।
- পর্তুগালে কোথায় থাকবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে হোটেল বুকিং করে নিন।
- আপনি পর্তুগালে কী কী দেখতে চান, তার একটি তালিকা তৈরি করুন। এতে আপনার ভ্রমণ সহজ হবে।
- আপনার পাসপোর্ট, ভিসা, প্লেনের টিকেট, হোটেলের রিজার্ভেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন।
- পর্তুগালের স্থানীয় আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে জেনে নিন এবং তা মেনে চলুন।
পর্তুগাল কোন কাজের চাহিদা বেশি?
পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে জানার পাশাপাশি দেশটির চাহিদা সম্পন্ন কাজগুলো সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন। সেখানে বিভিন্ন সেক্টরে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। নিচে কয়েকটি সেক্টরের উল্লেখ করা হলোঃ
- পর্তুগাল একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এই সেক্টরে কাজের সুযোগ অনেক। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
- পর্তুগালে IT সেক্টর বাড়ছে, তাই প্রোগ্রামার, ওয়েব ডেভেলপার, এবং ডেটা অ্যানালিস্টের চাহিদা রয়েছে।
- স্বাস্থ্যসেবা খাতে ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।
- পর্তুগালে নির্মাণ শিল্পে শ্রমিক ও প্রকৌশলীর চাহিদা রয়েছে।
- কৃষি সেক্টর এ বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।
যদি আপনি পর্তুগালে কাজ করতে যেতে চান, তাহলে এই সেক্টরগুলো আপনার জন্য ভালো সুযোগ নিয়ে আসতে পারে।
FAQ সেকশন
প্রশ্নঃ পর্তুগালে যেতে ভিসার জন্য কতদিন আগে আবেদন করতে হয়?
উত্তরঃ পর্তুগালে ভিসার জন্য অন্তত এক থেকে দুই মাস আগে আবেদন করা উচিত। এতে ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ পর্তুগালে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কখন?
উত্তরঃ পর্তুগালে ভ্রমণের জন্য এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময়ে আবহাওয়া ভালো থাকে এবং পর্যটকদের ভিড় কম থাকে।
প্রশ্নঃ পর্তুগালে কি ইংরেজি ভাষায় কথা বলা যায়?
উত্তরঃ পর্তুগালে অনেক মানুষ ইংরেজি বলতে পারে, বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে। তবে কিছু পর্তুগিজ শব্দ শিখে রাখলে সুবিধা হবে।
প্রশ্নঃপর্তুগালে ভ্রমণের সময় কী কী জিনিস সাথে নেওয়া উচিত?
উত্তরঃ পর্তুগালে ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট, ভিসা, প্লেনের টিকেট, হোটেলের রিজার্ভেশন কপি, ভ্রমণ বীমা, এবং প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সাথে নেওয়া উচিত। এছাড়াও, আরামদায়ক পোশাক ও জুতো, সানস্ক্রিন, টুপি এবং ক্যামেরা নিতে পারেন।
আরো জানুনঃ


